# রাজীবুল হাসান :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়াসহ কয়েকটি গাছ বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কেটেছেন কর্মকর্তা।
২৬ জুলাই রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত উপজেলা নির্বাচন অফিস। অফিস চত্বরে কৃষ্ণচূড়া, আমগাছসহ কয়েকটি গাছ কাটছেন একজন শ্রমিক। এসময় গাছগুলি সব ডালপালা কেটে নেওয়া হয়েছে। পড়ে রয়েছে কাটা গাছের অংশ ও গোড়া।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. মোর্শেদ মিয়া। তিনি বলেন, অফিসের সামনে থাকা জাতীয় পতাকা সাঁটানোর স্ট্যান্ড এবং বিদ্যুতের মেইন লাইনের নিরাপত্তার স্বার্থে গাছটি অপসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া বাকী কয়েকটি গাছের ডালপালা কেটে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। অফিসের সামনে জায়গা পরিস্কার করে নতুন করে আবারো গাছ লাগানো হবে। অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশে গাছটি কাটা হচ্ছে। বনবিভাগের অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না তাঁর স্যার বলতে পারবেন।
অফিস চলাকালীন সময়ে রোববার দুপুরের দিকে উপজলো নির্বাচন অফিসারকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর মুঠোফোনে কল দিয়ে এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সরদার মাছুম হাছান মুঠোফোনে এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের জেলার স্যার ও ইউএনও স্যারকে অবগত করেই কার্যালয়ের সামনে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছসহ ছোট গাছের আবর্জনা পরিস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া কার্যালয়ের সামনে পতাকা সাঁটানো হলে তা দেখা যায় না তাই সামনের গাছটি কাটা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুতের তার ও পতাকা সাঁটানো স্ট্যান্ডের সঙ্গে গাছটির উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। তাদের দাবি, প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা ছাঁটাই করেই গাছটি সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল। পুরো গাছ কেটে ফেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠেছে।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম মামুনুর রশীদ জানান, নির্বাচন অফিস যথাযথ কারণ দেখিয়ে নিয়ম অনুযায়ী গাছটি কাটছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে বন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে গাছটি কাটা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। এই বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।
অনুমোদন ছাড়াই ভৈরব নির্বাচন অফিস চত্বরের গাছ কাটলেন কর্মকর্তা
25 views
