ফলোআপ : পূর্বকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর কুলিয়ারচরের বিতর্কিত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা বদলি

34 views

# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
দৈনিক পূর্বকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পরপরই কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে বদলি করা হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই দৈনিক পূর্বকণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় “কুলিয়ারচরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক রুকনের দুর্নীতির পাহাড়, গাছ বিক্রিসহ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের সাত দিনের মাথায় গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (রাজস্ব শাখা) থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বদলি করা হয়।
রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নিলুফা আক্তার রুপা স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে (স্মারক নং: ৩১.১২.৪৮০০.০০৭.১৬.০০১.(অংশ).১২-১২১৫) জানানো হয়, প্রশাসনিক প্রয়োজনে নাছিমা আক্তারকে তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। একই সাথে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কুলিয়ারচরের উছমানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মনির উদ্দিন আহমাদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ওই কর্মকর্তাকে আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে; অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ন থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (ঝঃধহফ জবষবধংব) বলে গণ্য হবেন। জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, সরকারি জায়গার গাছ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, এবং ভূয়া শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে অতিরিক্ত কর আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। নূন্যতম ১ হাজার ৫০০ টাকা না দিলে নামজারির কোনো প্রস্তাব তিনি পাঠান না। নথিতে সামান্য ত্রুটি পেলেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে ম্যানেজ করার কথা বলে ২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হতো। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্যের নামে এমনকি খোদ সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালীদের নামে নামজারি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এসব অনিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর ৪টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
কেবল বদলিতেই ক্ষোভ কমেনি স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু কর্মস্থল পরিবর্তনই শেষ কথা হতে পারে না। নাছিমা আক্তার ও তাঁর সহযোগী রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন। তবে নাছিমা আক্তার স্বীকার করেন যে, সংবাদ প্রকাশের পরেই তাকে বদলি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার জানান, সরকারি আদেশে নাছিমা আক্তারকে তাড়াইলে বদলি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বরাবর যেসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *