# মিলাদ হোসেন অপু :-
প্রেমিকাকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবেসেছিল আনোয়ার হোসেন নামে ৪০ বছরের এক ব্যক্তি। প্রেমের সম্পর্ককে ছিন্ন করে প্রেমিকা তাঁর বাবার কথায় বিয়ে করে মালয়শিয়ার এক প্রবাসী যুবককে। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার সেই গল্প এবং প্রেমিকা ও তাঁর পরিবারের প্রতারণার বিষয়টি ৬ পাতার চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে আনোয়ার হোসেন। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণি এলাকায় এশিয়া হোটেল নামে একটি আবাসিক হোটেলের ১০নং কক্ষ থেকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত আনোয়ার হোসেন কুলিয়ারচর উপজেলার কামালিয়া কান্দি এলাকার সাইজ উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস।
হোটেল ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সময় ভৈরবে আসলেই এশিয়া হোটেলে থাকেন আনোয়ার হোসেন। গত মাসে ২৫ জুন এসে দুইদিন থেকে যায় আনোয়ার হোসেন। পরে ৩০ জুন এসে এশিয়া হোটেলের ১০নং কক্ষে উঠেন আনোয়ার। টানা ১০ দিন থেকে ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় হোটেল বয় হোটেলের রুমের দরজায় এসে ডাকাডাকি করে কোন রকম সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেলে পিছন দিক দিয়ে গিয়ে দেখে সে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা প্যাঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
চিরকুট থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে অপরিচিত নাম্বারের মিসকল থেকে একই এলাকার একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আনোয়ারের। সে ঢাকায় একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে মানব পাচারের কাজ করতো ও একজন ব্যবসায়ী ছিল। বিদেশে লোক পাঠানোর ঘটনায় এক প্রবাসী ফেরত ব্যক্তির করা মামলায় তিন মাস কারাবরণ করেন আনোয়ার হোসেন। এই ফাঁকে প্রেমিকাকে বিয়ে দিয়ে দেয় তাঁর বাবা। বিয়ের পরও দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল প্রেমিকা ও তাঁর পরিবারের সাথে। এক পর্যায়ে স্বামীর সংসার ছেড়ে আসার আশ্বাসও দেয় ওই প্রেমিকা। কিন্তু অবশেষে বাবার নির্দেশ মানতে গিয়ে প্রেমিকার অসধাচরণ শুরু করে আনোয়ারের সাথে। তা মেনে নিতে পারেনি আনোয়ার।
চিরকুট লেখা থেকে আরো জানা যায়, একসাথে বাঁচা মরার প্রতিজ্ঞা করেছিল আনোয়ার ও তাঁর প্রেমিকা। এমনকি একসাথে মৃত্যু বরণের প্রতিজ্ঞা ছিল তাদের। এদিকে আত্মহত্যার পর মরদেহ তাঁর প্রেমিকার কাছে হস্তান্তরেরও অনুরোধ জানান আনোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে হোটেল বয় আরিফুল ইসলাম শান্ত বলেন, আমাদের হোটেলের নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন আনোয়ার হোসেন। ৩০ জুন আসার পর দীর্ঘদিন যাবত থাকছেন। ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় হোটেল ভাড়া আদায়ের জন্য তাঁর রুমে গিয়ে ডাকাডাকি করলে তিনি দরজা খোলেনি। আমাদের সন্দেহ হলে হোটেল রুমের পিছনে জানালা দিয়ে দেখি তিনি ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, খবর পেয়ে এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। এসময় মরদেহের পাশে ৬ পৃষ্ঠার একটি চিরকুট পাওয়া যায়। নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ১০ জুলাই সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিরকুটে প্রেম সম্পর্কিত কিছু একটা লেখা রয়েছে প্রাথমিকভাবে বুঝতে পেরেছি। ৬ পৃষ্ঠায় কি আছে তা তদন্ত শেষে বলা যাবে বলে জানান তিনি।
প্রেমিকার বিয়ে হওয়ায় ভৈরবে আবাসিক হোটেলে ৬ পাতার চিরকুট লিখে যুবকের ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা
47 views
