# মোস্তফা কামাল :-
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জমির ফসল পরিবহনের জন্য রাস্তা নির্মাণ না করেই প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি একজন ইউপি সদস্যসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে উঠেছে এই গুরুতর অভিযোগ। ২৯ জুন সোমবার নিকলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগটি করেছেন সিংপুর ইউনিয়নের গোড়াদিঘা গ্রামের কৃষক রোকন আহম্মেদ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গোড়াদিঘা হাওরে দুদু মিয়ার জমি থেকে অভিযোগকারী রোকন আহম্মেদের বাবা ইন্তাজ আলীর জমি হয়ে পেনাকোণা পর্যন্ত কৃষকের ফসল পরিবহনের জন্য একটি মাটির নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সিংপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মোতালিব। কিন্তু প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে রাস্তায় কোন মাটি না ফেলেই আব্দুল মোতালিবসহ প্রকল্পের অন্য সদস্যরা সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। রাস্তাটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। ফলে সরেজমিনে তদন্ত করে এহেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও’র কাছে আবেদন জানিয়েছেন রোকন আহম্মেদ। আবেদনে সাক্ষী হিসেবে চারজন কৃষকের নামও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী রোকন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি রাস্তার বিষয়ে মেম্বার আব্দুল মোতালেবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি আগামী বছর করে দেবেন বলে উত্তর দিয়েছেন। সময়মত রাস্তা না করে টাকা আত্মসাত করে এখন আগামী বছরের কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন রোকন আহম্মেদ।
এ ব্যাপারে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিবকে প্রশ্ন করলে বলেন, তিনিসহ এলাকার লোক নিয়ে চার সদস্যের প্রকল্প কমিটি করা হয়েছিল। দেড় হাজার ফুট দীর্ঘ, ৮ থেকে ১০ ফুট প্রস্ত ও দুই ফুট উচ্চতার রাস্তাটির জন্য বরাদ্দ হয়েছিল দেড় লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর মাধ্যমে আসে। চেয়ারম্যানই কাজটি মেম্বার আব্দুল মোতালিবকে দিয়েছিলেন। তবে টাকাটা তিনি চেয়ারম্যানের কাছেই জমা রেখেছিলেন বলে জানালেন। কিন্তু কাজ শুরু করার আগেই রাজনৈতিক মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় তিন মাস কারাবাস করে জামিন পেয়েছেন। ইতোমধ্যে জমিতে বর্ষার পানি উঠে গেছে। যে কারণে কাজটি এবার করা সম্ভব হয়নি। আগামী মৌসুমে কাজটি করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীকে টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, মেম্বার তাঁর কাছে প্রকল্পের কোন টাকা জমা রাখেননি। মেম্বারের বক্তব্য ঠিক নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে পরে ব্যাখ্যা দেবেন জানিয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে নিকলীর ইউএনও রেহানা মজুমদার মুক্তি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে বলেছেন, যেহেতু মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফলে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন সিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীকে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। প্রতিবেদন পেলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
ফসল পরিবহনের রাস্তা না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মেম্বারের নামে
72 views
