# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
সড়ক দুর্ঘটনার এক অজ্ঞাত রোগীকে অচেতন অবস্থায় কয়েক ব্যক্তি ১৭ দিন আগে হাসপাতালে ফেলে যায়। আজও তাঁর কোন নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্যোগে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থও হয়েছেন। কিন্তু এখনও রোগীর চেতনার অবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। ফলে তাঁর সঠিক পরিচয়ও এখনও জানা সম্ভব হয়নি। রোগীটি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি আছেন। তাঁর বয়স হবে আনুমানিক ৫৫ বছর।
৩০ জুন মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, গত ১৩ জুন কয়েক ব্যক্তি ভৈরব থেকে রোগীটিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে চলে যায়। পরে জরুরি বিভাগ থেকে রোগীকে পাঠানো হয় সার্জারি বিভাগে। কিন্তু রোগীটি মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত। তাঁর বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে অনেকটা অংশ গুড়ো হয়ে গেছে। যে কারণে তাকে ১৫ জুন সার্জারি বিভাগ থেকে অর্থোপেটিক বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর চিকিৎসা চলছে। কিছুটা সুস্থ হলেও অবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। তাঁর নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। তিনদিন আগে কেবল আলতো করে বলেছিলেন, তাঁর নাম কৃষ্ণ। বাবার নাম কার্তিক চন্দ্র হালদার। বাড়ি ঢাকার সাভারে। এর পর আর কোন কথা বলেননি। তাঁর এই পরিচয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোগীটি কিছুক্ষণ পর পর বিছানা নষ্ট করে ফেলে। যে কারণে তাকে অন্য রোগীদের সাথে ওয়ার্ডে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। রাখা হয়েছে আলাদা করে করিডোরের এক কোণে। রোগীকে দেখা গেছে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তাকে একজন চিকিৎসক কয়েকবার ডাক দিলেন। কিন্তু সাড়া দেননি। তবে পিবিআইকে কয়েক দিন জানানোর পর সোমবার তারা হাসপাতালে গিয়ে রোগীর আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে গেছে। রোগীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, রোগীকে এখানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ তাঁর হাড় যেভাবে ভেঙেছে, এর চিকিৎসার জন্য যে ধরনের যন্ত্রপাতি দরকার, সেগুলো সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেই। তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা দরকার। সেই কারণেই তাঁর পরিচয়টা শনাক্ত হওয়া খুব প্রয়োজন।
১৭ দিন হাসপাতালে এখনও পরিচয় মেলেনি
75 views
