মোস্তফা কামাল :-
এখন কেউ বিদ্যুতের নতুন মিটার স্থাপন করলে বা পুরনো মিটার পাল্টালে বাধ্যতমূলকভাবে প্রিপেইড মিটার নিতে হয়। কিন্তু এই প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের দেখা দিয়েছে উটকো ভোগান্তি। এখন প্রিপেইড মিটারে টাকা লোড করতে গিয়ে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ১০০টি, আর আবাসিক গ্রাহকদের চাপতে হয় ২৪০টি ডিজিট। এতে গ্রাহকরা পেরাশানির শিকার হচ্ছেন। নিজেরা ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ বিদ্যুৎ বিভাগের লোক নিয়ে টাকা লোড করেছেন বলেও জানা গেছে।
এর আগে সকল শ্রেণির গ্রাহকদেরই প্রিপেইড মিটারে চাপতে হতো ২০টি ডিজিট। জুন মাস থেকে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিলের সার্ভার আপডেট করার কাজ চলছে। যে কারণে এই বিপুল সংখ্যক ডিজিট কেবল একবারই চাপতে হবে। একই মিটারে দ্বিতীয়বার টাকা লোড করতে গেলে সবাইকে ২০টি ডিজিট চাপলেই হবে বলে জানালেন কিশোরগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডের ‘ডিজিটাল লিংক’ নামে ফ্ল্যাক্সিলোড ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকে অনেকেই প্রিপেইড মিটারে টাকা লোড করতে আসেন। তাদের সবাই বিপুল সংখ্যক নম্বর চাপতে সমস্যা হয়, ভুল হয় বলে অভিযোগ করেন। তাঁর পাশেই রয়েছে বোম্বে আবাসিক হোটেল। হোটেলের ম্যানেজার জাফর উল্লাহ জানালেন, এই হোটেলে ১৫ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ সংযোগ। তিনি শনিবার ডিজিটাল লিংক থেকে তিন হাজার টাকার লোড কিনেছিলেন। মোবাইল ফোনে ১০০টি নম্বর ভাসলো। তিনি চেষ্টা বহু করেও টাকা ঢোকাতে পারলেন না। ডেকে নিয়ে আসলেন ডিজিটাল লিংক থেকে ফরিদ উদ্দিনকে। তিনিও ব্যর্থ হলেন। অবশেষে বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক এনে সমস্যা থেকে উদ্ধার পেলেন। কিন্তু এদিকে টাকা ঢুকতেই দেখলেন, ডিমান্ড চার্জ বাবদ কেটে নিল ১৮শ’ টাকা!
শহরের গৌরাঙ্গবাজার এলাকার আবাসিক গ্রাহক হাফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া জানালেন, তিনি বাসার জন্য ফ্ল্যাস্কিলোডের দোকান থেকে টাকা লোড করতেই ভেসে উঠলো ২৪০টি নম্বর। এত নম্বর নির্ভুলভাবে চাপতে পারেননি। অবশেষে অন্য একজন তাকে সহায়তা করেছেন। কিশোরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান খান মনির জানালেন, তাঁর একটি বাসা তিন মাস ধরে খালি আছে। সেই বাসার প্রিপেইড মিটারে এক হাজার টাকা লোড করেছিলেন। এখনও কোন ভাড়াটিয়া ওঠেনি। যে কারণে এখনও বিদ্যুৎ আছে। কিন্তু এই তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ কেটে নিয়েছে ৮০০ টাকা।
কিশোরগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, এক সময় ছিল চাকা ঘোরানো এনালগ মিটার। পরে আসলো ডিজিটাল মিটার। এখন এসেছে প্রিপেইড মিটার। এখন কেউ নতুন মিটার স্থাপন করতে গেলে বা পুরনো মিটার পরিবর্তন করতে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করতে হয়। কিশোরগঞ্জে পিডিবির আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক আছেন মোট ৭৮ হাজার ৩২০ জন। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছেন ২০ হাজার ৬১৬ জন। তিনি জানান, সকল শ্রেণির প্রিপেইড গ্রাহকদের এতদিন কেবল ২০টি ডিজিট চাপতে হতো। সরকার চলতি জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ফলে প্রিপেইড বিল সিস্টেমের সার্ভার আপডেট করা হচ্ছে। যে কারণে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১০০টি, আর আবাসিক গ্রাকদের ক্ষেত্রে ২৪০টি ডিজিট চাপতে হয়। তবে এটা কেবল একবারই হবে। কেউ আজকে টাকা লোড করলে এই বিপুল সংখ্যক ডিজিট চাপতে হবে। একই মিটারে আগামীকাল আবার টাকা লোড করলে ২০টি ডিজিট আসবে। তিনি জানান, অনেকে মনে করেন প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে সরকার ডিমান্ড চার্জ বা সার্ভিস চার্জ রহিত করেছে। এটা ঠিক নয়। এ কারণেই টাকা লোড করতে গেলে টাকা কেটে নিতে দেখা যায়।
তবে অনেক গ্রাহক মনে করেন, প্রিপেইড মিটারে এমন প্রযুক্তি সংযোজন করা দরকার, যেন টাকা লোড করলে মোবাইল ফোনের মত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটারে লোড হয়ে যায়। কোন ডিজিট চাপাচাপির ঝামেলা যেন না থাকে।
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে টাকা লোড করতে ভোগান্তি এ সমস্যা কেবল একবার
36 views
