কুলিয়ারচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজার দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১০

58 views

# মুহাম্মদ কাইসার হামিদ :-
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচা-ভাতিজার দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ২০ এপ্রিল সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নাছিরাকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নাছিরাকান্দা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে মো. ইকবাল হোসেন (৪০) ও তাঁর চাচা মো. জালাল উদ্দিনের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে নাছিরাকান্দা বন্দে বিরোধীয় জমিতে ধান কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের রূপ নেয়। সংঘর্ষে ইকবাল হোসেনসহ তাঁর পক্ষের আজগর আলীর ছেলে রুমান (৩২), হুসেন আলীর ছেলে মো. রহমত আলী (৫৬), রহমত আলীর ছেলে সৌরভ (১৬) ও রবিন (১৯) আহত হয়। প্রতি পক্ষের চাচা জালাল উদ্দিনসহ তাঁর ছেলে রুবেল (৩৫), মামুন (৩০) ও ছেলের স্ত্রী লিজা আক্তার (৩০) আহত হয়। ঝগড়া ভাঙাতে গিয়ে একই গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে শিরিছলাম ওরুফে শির চাঁন (৬৫) গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের মধ্যে ৯ জনকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে ইকবাল হোসেন, রুমান, শিরিছলাম ওরুফে শির চাঁন, জালাল উদ্দিন, লিজা আক্তার, মামুন ও রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রহমত আলী ও রবিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আহত সৌরভ ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়।
এ ব্যাপারে আহত মো. ইকবাল হোসেন (৪০) বলেন, তাদের পৈত্রিক ও কটে রাখা সম্পত্তিতে তারা ধান রোপন করেছিলো। সোমবার সকালে তাঁর চাচা জালাল উদ্দিন (৭০) লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক তাদের রোপিত ধান ক্ষেত কেটে নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেয়। বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর চাচা জালাল উদ্দিন লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্রাধী নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এসময় সংঘর্ষের রূপ নেয়। সংঘর্ষে তাদের পক্ষের ৪ জন আহত হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. সামিয়া জেসমিন বলেন, সকালে আহত অবস্থায় ৯ জন রোগী হাসপাতালে আসেন। এদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করি। ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখনো কোন পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।