# মিলাদ হোসেন অপু :-
উদ্বোধনের ৫ বছর পরও অব্যবহৃত রয়েছে ভৈরবের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। অবশেষে ২১ কোটি টাকায় ব্যায়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। ৬ জুলাই সোমবার নিজ আসনে সফরের এসে বিভিন্ন কার্যক্রম অংশ হিসেবে দুপুর ৩টায় পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও ভৈরবে বাজার নদীর পাড়ে মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আপৎকালীন জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এছাড়াও প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ ও গজারিয়া ইউনিয়নে ভৈরব উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মাদক প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
পরিদর্শন শেষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন যাবত কেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হয়নি। বা কোন রকম ত্রুটি আছে কিনা সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সারা দেশে ভৈরবের মাছের আড়তের সুনাম রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে অবতরণ কেন্দ্রটি চালু করতে যা কিছু করার প্রয়োজন সব ধরনের কার্যক্রম শেষে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দ্রু সময়ের মধ্যে চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ভৈরবের বিদেশগামী প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষাসহ ট্রেনিং সেন্টার করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। নদী বন্দর ভৈরবের নদী রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোত ভাঙন রোধে আপৎকালীন জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভৈরব ও কুলিয়ারচরের বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে যা অল্পদিনের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলার উন্নয়নের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় বিভিন্ন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব বাজার-আশুগঞ্জ নৌ বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নাহিদ হোসেন, যুগ্ম-পরিচালক চ.দ মো. জসিম উদ্দিন, ভৈরব মৎস অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মারুকী শাহীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. সাইফুল হক ও মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ।
আলোচনা শেষে নবনির্মিত ভৈরব লঞ্চঘাট পল্টুন পরিদর্শন করেন। এবং নৌ যোগে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমে অংশ নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরবে পুরাতন মেঘনা ফেরিঘাটে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত¡াবধানে ২০ কোটি ৭৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে চারতলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। অবতরণ কেন্দ্রটি ২৭ শতাংশ ভ‚মির ওপর নির্মিত। ভবনের চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর, অকশন শেড, প্যাকিং শেড, ৩৫টি আড়ত ঘর, ১টি আইসপ্লান্ট, সোলার প্যানেল, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, গভীর নলক‚প, আইস ক্রাসার ও জেনারেটর ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের প্রায় চার বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো ব্যবসায়ী অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসা করতে আসেননি।
ভৈরবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন ও পরিদর্শন করলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
66 views
