মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাঁড়াশি অভিযানে ভবঘুরে ও কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ৪২ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ১৫ জুন সোমবার রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভৈরবে মাদক ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ইদানীং কিশোর গ্যাংদের উৎপাত বেড়েছে। গত ২ সপ্তাহে রেলপথ ও সড়কপথ বন্ধ করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এতে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনার পর ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ও রাতে কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে থাকা ভবঘুরেদের ধরতে শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় অভিযানে শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে ৪২ জনকে আটক করা হয়। আটকের খবরে সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে আসা অভিভাবককে সচেতনতামূলক ও সতর্কতামূলক বক্তব্য দেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।
এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ভৈরবে দিন দিন কিশোর গ্যাং ও ভবঘুরে কিশোরদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তারা বিভিন্ন সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশ ভৈরব বাজারে ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর কোন কিশোর গ্যাং সদস্য ও ভবঘুরে থাকতে পারবে না। ১৫ জুন রাত ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছিনতাই ও মাদক স্পট এলাকাসহ অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৪২ জন ভবঘুরে ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৩৭ জনকে সাধারণ ক্ষমা করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ৫ জনের মধ্যে তিনজনের কাছে সুইস গিয়ার (চাকু) ও এক পুরিয়া গাঁজা পাওয়া যায় এছাড়াও দুইজনের নামে চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৬ জুন মঙ্গলবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

