প্রশাসনিক ব্যর্থতা, ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দের প্রত্যাহার

122 views

এম.আর রুবেল :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ ১১ জুন বৃহস্পতিবার তাকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। পুলিশের প্রত্যাহার আদেশে ‘জনস্বার্থে’ বা প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানাযায়, ১০ জুন বুধবার রাতে ভৈরবে সংঘটিত সংঘর্ষ এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ ওসি আতাউর রহমান আকন্দের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ঘটনাটি সত্য। প্রশাসনিক কারণে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় ভৈরবের মাইক্রোস্ট্যান্ডে ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শহরের কমলপুর ও দুর্জয় মোড় এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলীর নেতৃত্বে রাত ১২টায় অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হলে মধ্যরাতের দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এসময় ভৈরব মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি শ্রমিক দলের নেতা সিয়াম মিয়া পুলিশের টিয়ারসেলে গুরুত্বর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সাধারণ মানুষজনের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি হয়েছে। ভৈরব থানা, র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও প্রশাসন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে সরকারি স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা অহরহ ঘটছে। দীর্ঘ যানযটেও ৬/৭ ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পথচারীরা।
ওই সংঘর্ষের সময় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভৈরব থানা পুলিশ ও প্রশাসনকে লক্ষ্য করে ভূয়া ভূয়া শ্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এদিকে, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *