ভৈরবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে পাদুকা শিল্প মালিকদের সাথে মতবিনিময় ও কারখানা পরিদর্শন

88 views

# মোস্তাফিজ আমিন :-
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস (EC4J) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় CFC (Common Facility Center) স্থাপনের প্রস্তাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কিশোরগঞ্জের ভৈরবের পাদুকা শিল্প মালিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উপ-সচিব ও উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট আমিনুল ইসলাম, কম্পোনেন্ট কো-অর্ডিনেটর-২ মো. কামরুজ্জামান, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট আবু মেরাজ মোহাম্মদ ফোয়াদ উদ্দিন।
৬ জুন শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম.আজিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পাদুকা শিল্প মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মুজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় ভৈরবের পাদুকা শিল্পের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ও অগ্রগতি তুলে ধরে এই শিল্পের প্রসার ও উন্নতির জন্য এখানে একটি কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন পাদুকা শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আলামিন মিয়া, পাদুকা কারখানা মালিক মো. মাসুদুর রহমান জিসান প্রমুখ।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম-সচিব শেখ মো. আব্দুর রহমান এখানকার পাদুকা শিল্প কারখানাগুলিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের তাগিদ দেন। কারখানার পরিবেশ, শ্রমিকদের সুবিধা, উৎপাদিত পাদুকার বিশ্বমান-ইত্যাদির বিষয়ে সতর্ক ও যত্নবান হওয়ার তাগিদ দেন।
পরে প্রতিনিধি দলটি উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ও কমলপুর এলাকার কয়েকটি পাদুকা কারখানা পরিদর্শন করেন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানসহ মালিক-শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
পরে বিকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কমলপুর এলাকার উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিপরীত পাশে উপস্থিত কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার এর জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম.আজিমুল হককে নির্দেশনা দেন।
প্রসঙ্গত, রাজধানী শহর ঢাকার পরেই দেশের পাদুকাশিল্পের সবচেয়ে বেশী বিকাশ ঘটেছে ভৈরবে। বর্তমানে এখানকার হাতে তৈরি ৬/৭ হাজার কারখানার পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ রপ্তানিমূখি ৩৫টির মতো বড়পরিসরের কারখানা আছে। আর এইসব কারখানায় দেড় লাখেরও বেশী শ্রমিক কাজ করেন। নারী শ্রমিক কাজ করেন ৩০ হাজারের মতো।
পাদুকা তৈরির কাঁচামালামাল, প্যাকেজিং ইত্যাদিসহ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে পাঁচ লাখেরও বেশী মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছেন।
৬টি বৃহত্তর পাইকারি মার্কেট এবং ৫০টিরও বেশী পাদুকাশিল্প পল্লী নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি বড় কর্ম ও অর্থনৈতিক বলয়। যার উন্নতির সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিও জড়িত বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।