একদিকে চলছে পাইলিং অপরদিকে ভেঙে পড়েছে প্রাচীনকালের নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

43 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একদিকে চলছে ১০ তলা বিল্ডিংয়ের পাইলিং অপরদিকে আকস্মিক ভেঙে পড়েছে প্রাচীনকালের নির্মিত জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। অল্পের জন্য রক্ষা পেল বিল্ডিংয়ের নিচে থাকা ব্যবসায়ীরা। ১২ জুলাই রোববার রাত নয়টায় পৌর শহরের দুধ বাজার এলাকায় তারেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিল্ডিং ভেঙে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, প্রাচীনকালে নির্মিত প্রায় অর্ধশতাধিক বিল্ডিং রয়েছে ভৈরব শহরজুড়ে। পৌর প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর বিল্ডিংগুলো শত ঝুঁকির মধ্যেও ব্যবহার করছে মালিক পক্ষ। ব্যবসায়ীরা বিল্ডিংগুলো ভাড়া নিয়ে কেউ করেছে গোডাউন আবার কেউ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ভবনগুলোর নিচেও গড়ে উঠেছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিল্ডিংগুলোর পাশ ঘেঁষা রয়েছে মসজিদ ও নতুন নতুন বিল্ডিং। শহরের দুধ বাজার, নদীরপাড়, হলুদ পট্টি, রানীর বাজার, চক বাজার, নতুনগল্লি, লোহাপট্টি ও টিনপট্টিসহ বাজার এলাকায় নদী পাড় ঘেঁষা এলাকায় বেশ কয়েকটি বিল্ডিং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনগুলো বাজারে পাশে হওয়ায় এসবের পাশে বা নিচে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এলাকায় আনাগোনা করলেও সাপ্তাহিক হাটে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কয়েক হাজার মানুষ বাজারে আসে তাদের প্রয়োজনীয় কেনা কাটায়। ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংগুলোর নিচে চলে রমরমা ব্যবসা ও বুধবারের সাপ্তাহিক হাট। এ ঘটনায় ভৈরব বাজারে থাকা বাসিন্দারা রয়েছে চরম আতঙ্কে।
এদিকে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ দিলেও কর্ণপাত করেনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মালিক পক্ষ। ১২ জুলাই রোববার রাত ৯টায় দুধ বাজার এলাকায় হঠাৎ ভেঙে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি। তবে রোববার বাজার বন্ধের দিন হওয়ায় সেখানে তেমন কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে থাকা ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভৈরব বাজারে নতুন বিল্ডিং তৈরি করতে পাইলিং ব্যবহার করা হয়। অধিক ঝাঁকুনিতে নতুন ভবনগুলোই কেঁপে উঠে। সেই সাথে প্রাচীনকালে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আরো ঝুঁকিতে থাকে। দুধ বাজারে তারেক মিয়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে একটি নতুন ভবনের পাইলিং হচ্ছে। তাই রোববার দুপুরে তারেক মিয়ার বিল্ডিংয়ের বারান্দার একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে। পরে রাত ৯টায় পুরো বারান্দা ভেঙে নিচে পড়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রক্ত সৈনিক নজরুল ইসলাম বলেন, একাধিক বার আমরা স্থানীয়রা পুরাতন জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে একটি নতুন বিল্ডিংয়ের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। পাইলিংয়ের শব্দে আমরাই আঁতকে উঠি। আজ অল্পের জন্য একজন ব্যবসায়ী বেঁচে গেল। অপর ব্যবসায়ীরা কোন রকম বেঁচে গিয়ে বাড়ি চলে গেছে। আমরা চাই শহরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপসারণ করা হোক।
এ বিষয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে দুইমাস আগেও বাজারে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিং অপসারণের পরামর্শ দিয়েছি। এখানে শুধু বিল্ডিংগুলো ঝুঁকিপূর্ণ না পথচারী ও ব্যবসায়ীরা রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। খবর পেয়ে আমরা এসেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন বলেন, পৌরসভার কর্তৃপক্ষ যখনই জেনেছে ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তখনই মালিক পক্ষকে নোটিশ করেছে। মালিকপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ না করলে পরবর্তী আর নোটিশ নয় পৌরসভার পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, এক সপ্তাহ আগেও ভৈরব বাজারে বেশ কয়েকজন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিককে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ভবনগুলো বাজার এলাকায় অপর দিকে রোববার বন্ধের দিন হওয়ায় বাজারে মানুষের যাতায়াত কম ছিল। তাই ভাগ্য ভাল কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন আর মালিক পক্ষকে সুযোগ দেয়া হবে না। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩ জুলাই থেকে ভেঙে যাওয়া ভবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করার প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *