# মোস্তফা কামাল :-
ইটভাটা দখল, অর্থ আত্মসাৎ ও ফাঁকা চেকের পাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ এনে পুলিশের সাবেক আইজিপি ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ, তাঁর ছেলে ওমর মোহাম্মদ নূর অমিতসহ পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক কাতার প্রবাসী মামলা করছেন। মামলার বাদী কটিয়াদী উপজেলা সদরের ভোগপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন রুবেলের পক্ষে ৫ জুলাই রোববার কিশোরগঞ্জের ৫নং বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ওমর মোহাম্মদ নূরকে। নূর মোহাম্মদ ২ নম্বর আসামি। অপর তিন আসামি হলেন কথিত ইট ভাটার অংশিদার নজরুল মিয়া, পারভেজ খান ও নূর মোহাম্মদের পিএস আমজাদ হোসেন লিটন।
মামলার শুনানি শেষে বিচারক মো. এমরান আগামী ১৭ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে নূর মোহাম্মদ এজাহারের বক্তব্য বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ইটভাটা ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, বাদী রুবেল ইট সরবরাহের কথা বলে বহু মানুষের কাছে টাকা নিয়ে ইট দিতে পারেননি। লোকজন নূর মোহাম্মদের কাছে নালিশ নিয়ে আসতেন। আবার ভাটার ভাড়াও ঠিকমত পরিশোধ করতে পারেননি। সেই কারণেই তাকে ইটভাটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর মীরেরপাড়া এলাকায় বিশ্বাস ব্রিকস লিমিটেড (বিবিএল) নামে নূর মোহাম্মদরা পিতা-পুত্র ও নজরুল মিয়ার মালিকানাধীন একটি ইটের ভাটা ছিল। এক পর্যায়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভাটার তিন মালিক বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেলকে ইট ভাটাটি ভাড়া নিয়ে ইট তৈরির ব্যবসা করার জন্য প্রলুব্ধ করেন। বাদী পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া নিয়ে ২০১৯ সালের ২০ জুলাই সমুদয় ভাড়া ৪৫ লক্ষ টাকা এককালীন পরিশোধ করেন। টাকা বুঝে পেয়ে ১০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র লিখে তাতে নূর মোহাম্মদের ছেলে স্বাক্ষর করে বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেলকে দিয়ে দেন।
বাদী আরও ৭০ লাখ টাকা খরচ করে ইটভাটা চালু করেন। ২০২০-২১ সালে যখন ভাটায় ১০ কোটি টাকার পোড়া ইট, ৩ কোটি টাকার কাঁচা ইট ও অন্যান্য কাঁচামালসহ ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, তখনই বাদীর কাছ থেকে ইটভাটা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাদীকে ইটভাটা থেকে উচ্ছেদ করেন এবং ইসলামী ব্যাংকের দু’টি ফাঁকা চেকের পাতায় ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর আদায় করে নেন। পরবর্তীতে কিছু লোকজনসহ নূর মোহাম্মদের বাড়িতে গেলে তিনি বাদীকে ইটভাটা ফেরত দেবেন, নতুবা সমুদয় টাকা, স্বাক্ষরিত চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
পরবর্তী সময়ে নূর মোহাম্মদের পিএস আমজাদ হোসেন লিটন বাদীকে হত্যার হুমকি দিলে তিনি দেশ ছেড়ে কাতার চলে যান। গত মে মাসে তিনি দেশে এসেছেন। গত ৫ জুন তিনি কিছু লোকজন নিয়ে নূর মোহাম্মদের বাড়িতে গেলে নূর মোহাম্মদসহ আরও তিন আসামির সাথে দেখা হয়। এসময় বাদী তাঁর ৪৫ লক্ষ টাকা ভাড়াসহ বিনিয়োগকৃত ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা এবং স্বাক্ষরিত ব্যাংকের চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত চান। এসময় তারা বাদীর কাছে ইটভাটা ভাড়া দেওয়ার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেল আদালতে মামলাটি করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এ ব্যাপার সাবেক আইজিপি ও সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ বলেছেন, ইটভাটা নিজেরা নানা কারণে চালাতে পারছিলাম না বলে রুবেলকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল ঠিকই। এককালীন ভাড়া পরিশোধ দূরে থাক, বরং তিনি ইট সরবরাহের কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু ইট দিতে পারছিলেন না বলে মানুষ নালিশ নিয়ে আসতেন। ভাটার ভাড়াও ঠিকমত পরিশোধ করতে পারেননি। সেই কারণেই তাকে ইটভাটা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাদী রুবেল সর্বসাকুল্যে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের যে হিসাব দিয়েছেন, সেটি শুনে নূর মোহাম্মদ হাসি দিয়ে বলেন, এত টাকা পাওনা হলে এত বছর পর কেন মামলা করতে এলেন। এখন রুবেল ভিন্ন ধরনের একটা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন।
তবে বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেল তাঁর এজাহারের অভিযোগগুলো সঠিক বলে দাবি করেছেন।
ইটভাটা দখল অর্থ আত্মসাৎ সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ ও তাঁর ছেলের নামে মামলা
161 views
