কটিয়াদীতে ইলেকট্রনিক্স দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি আংশিক মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২

191 views

সারোয়ার হোসেন শিহীন :-
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার সামনে অবস্থিত একটি ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মালামাল, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। শনিবার রাতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া এলাকার ইদ্রিছ আলীর ছেলে মো. আবদুল্লাহ (২৫) ও একই এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. হাদিউল (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ রাতে উপজেলার নদীর বাঁধ এলাকায় অবস্থিত কটিয়াদী ইলেকট্রনিক্স দোকানের পেছনের টিনের বেড়া ভেঙে দুর্বৃত্তরা বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন ১৯ মার্চ সকালে কর্মচারীরা এসে দোকানের মালামাল এলোমেলো এবং টিনের বেড়া ভাঙা দেখতে পান। চোর চক্রটি সিলিং ফ্যান, স্টেরিলাইজার ড্রাম, ফোর-বার্নার চুলা, সাকার মেশিন, অটো গ্রাইন্ড মেশিনসহ প্রায় ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী মতিউর রহমান (কমু) জানান, এর আগেও আরও ৩ বার একই দোকানে চুরি হয়েছে। প্রতিবারই ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য চুরি করে নিয়ে গেলেও কাউকে ধরা যায়নি। কিন্তু শেষবার চোরদের ধরতে পেছনে পুলিশ এবং গোপন সোর্স লাগানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে প্রথমে চোর আবদুল্লাহর ঘরে চুরি হওয়া মালামাল পাওয়া যায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বৈদ্যুতিক পাখাসহ বেশ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সহযোগী হাদিউলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে এ সময় আবদুল্লাহর চাচা কুদ্দুছ মিয়া দাবি করেন, চুরি হওয়া মালামাল আমাদের ঘরে পাওয়া গেলেও আমরা চোর নই। এগুলো আমরা হাদিউলের কাছ থেকে কিনে রেখেছিলাম।
এদিকে বাদী মতিউর রহমান কমু বলেন, চোরদের রিমান্ডে এনে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির পুরো চক্রটি ধরা পড়বে বলে আমার বিশ্বাস এবং দাবি।
কটিয়াদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *