মেয়ের ধর্ষণ মামলা করে মা-মেয়ে এখন বাড়িছাড়া, মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ

76 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জে এক দরিদ্র নারী শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মামলা করে এখন বাড়ি ছাড়া। মেয়েটি পড়তো দ্বিতীয় শ্রেণিতে। আসামি পক্ষের হুমকিতে বাড়িছাড়া হয়ে এখন মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ। মেয়েটির ছোটবোন পড়তো প্রথম শ্রেণিতে। তারও পড়ালেখা বন্ধ। এই দরিদ্র অসহায় মা শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারের বিপদের কথা তুলে ধরে নিরাপত্তা ও সুবিচার চেয়েছেন।
শুক্রবার সকালে শহরের আখড়াবাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, তাদের বাড়ি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভাবুন্দিয়া গ্রামে। মেয়েটির বাবা মাটিকাটা শ্রমিক। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসারে সাহায্য করেন। তাদের দু’টি মেয়ে। সাড়ে সাত বছরের বড় মেয়ে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। পাঁচ বছরের ছোট মেয়ে একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় বড় মেয়েকে প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী লিটন মিয়ার ছেলে সানিম (১৫) চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এক পর্যায়ে মুখ চেপে ধরে আসামির বাড়ির পেছনে নিয়ে জোরপূর্বধ ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাড়িতে এসে মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে পরদিন মা বাদী হয়ে সানিমকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা করেন। এদিনই সানিমকে গ্রেপ্তার করলে আদালত তাকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর আদশ দেন। সানিম বর্তমানে গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে আছে।
এদিকে মামলা করার পর থেকেই সানিমের বাবা সৌদি থেকে ফোন করে বাদী পক্ষকে কেটে টুকরো টুকরো করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আসামির চাচা আরজু মিয়া, বাদল মিয়া, আল আমিন, চাচাত ভাই উজ্জ্বল ও রায়হানসহ স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। প্রাণ ভয়ে মেয়েদের নিয়ে মা এখন জেলা শহরের কানিকাটা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বাড়িও যেতে পারছেন না, মেয়েদেরও পড়ালেখা বন্ধ। মেয়েদের বাবা মাঝে মাঝে বাড়িতে যান। সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির মা আইন শৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছেন। সেই সাথে ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানিয়েছেন, হুমকির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *