# মোস্তফা কামাল :-
কিশোরগঞ্জে এবার আমন ধানের পোকা ধরা ব্রিধান-৪৯ জাতের বীজ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বরাদ্দ পাওয়া বীজ ফেরত দিচ্ছেন ডিলাররা। তবে পোকার আক্রমণ স্বীকার করলেও বীজে অঙ্কুরোদগম আশানুরূপ বলছে বিএডিসি। বলা হচ্ছে, বীজ ধানের আর্দ্রতা থাকতে হয় ১২ ভাগ। কিন্তু ২০০৮ সালের মলিন ত্রিপলের কারণে এবারের অধিক বৃষ্টিপাতে বীজের আর্দ্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। অবশ্য বিএডিসির (বীজ উৎপাদন) উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদ বলেছেন, পোকার উপস্থিতি দেখা গেলেও বেশিরভাগ পোকা মরা। ফলে বীজের মান নষ্ট হয়নি।
১০ জুন বুধবার শহরের একরামপুর এলাকার বিএডিসি (বীজ বিপণন) কার্যালয়ে গেলে উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) ফাতেমা নাসরিন জানান, এবার ২০২৬-২৭ কৃষি বর্ষের জন্য কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন জাতের আমন বীজের চাহিদা রয়েছে ৮৯৯ মেট্রিকটন। এখন পর্যন্ত ডিলার পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৩০ টন। তবে মোট ৮৯৯ টন বীজের মধ্যে ব্রিধান-৪৯ বীজের চাহিদা রয়েছে ৩০৮ টন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ বীজ উৎপাদন বিভাগের গুদাম থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বীজ সরবরাহের কথা ২২০ টন। বাকিগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকার বিএডিসির উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করার কথা। ইতোমধ্যে বিপণন বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫৮ টন। প্রতি কেজি বীজ ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৯ টাকা কেজি দরে। তারা কৃষকের কাছে বিক্রি করবেন ৬৮ টাকা কেজি দরে। তবে এই ব্রিধান-৪৯ বীজেই পোকার আক্রমণ দেখা গেছে।
জেলায় বিএডিসির বীজ ডিলার রয়েছেন ২৪৭ জন। অনেকেই পোকার কারণে বীজ নিয়েও ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার বিএডিসি (বিপণন) কার্যালয়ে কথা হয় সদর উপজেলার নগুয়া বটতলা এলাকার ডিলার আখেরুল মুমেনিনের সাথে। তিনি দুই টন ব্রিধান-৪৯ বীজ নিয়েছিলেন। সবগুলো ফেরত দিয়েছেন। বীজ বিতরণ ৫ মে থেকে শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়েছে। তবে ১ জুন থেকে আবার বিতরণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন কৃষকরাও সরাসরি বিএডিসি গুদাম থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএডি ফাতেমা নাসরিন।
ফাতেমা নাসরিন জানিয়েছেন, পোকার উপস্থিতি পাওয়ার পর নিজেরা বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করছেন। কিছু বীজ একদিন ভিজিয়ে রেখে সেখান থেকে ৩ জুন ১০০টি বীজ একটি বাটিতে মাটি দিয়ে পুঁতে দিয়েছেন। ১০ জুন বুধবার গণনা করে দেখা গেছে, ৯৪টি বীজে চারা গজিয়েছে। এটা আশানুরূপ বলেছেন ফাতেমা নাসরিন। তবে মোট চারটি বাটিতে ৪০০ বীজ পুঁতে এই পরীক্ষাটি চালাতে হয়। ১৪ দিন পর সর্বোচ্চ সবল চারাগুলো গণনা করতে হয়। একটি বাটির পরীক্ষায় ফলাফল আশাব্যঞ্জক পাওয়া গেছে। পোকা ধরা বীজগুলো থেকে মরা পোকাগুলো ঝেরে ফেলে দিয়ে ভাল বীজগুলো পৃথক করে আলাদা প্যাকেট করা হচ্ছে।
চালের যে অংশ থেকে অঙ্কুরোদগম হয়, তাকে বলা হয় ভ্রুণ। বাকি চালটুকু ভ্রুণ এবং নবীন চারার পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। ধানে পোকা ধরলেও ভ্রুণসহ চালের অন্তত ৬০ ভাগ অক্ষত থাকলে সেই বীজ থেকে মানসম্পন্ন চারা পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ডিএডি ফাতেমা নাসরিন।
বিএডিসির উপ-পরিচালক (বীজ উৎপাদন) হারুন-অর রশিদ জানিয়েছেন, যেখানে শস্য থাকবে, সেখানে পোকার আক্রমণ হবেই। তবে এর হাত থেকে শস্যকে রক্ষা করার জন্য রাসায়নিক ও যান্ত্রিকসহ নানা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। ধান বীজের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। কিন্তু এবারের আবহাওয়া ছিল ব্যতিক্রম। এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। ধান বীজের বস্তাগুলো অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা বিশেষ ধরনের ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। কিন্তু এসব ত্রিপল সর্বশেষ আমদানি করা হয়েছে ২০০৮ সালে। এত পুরনো ত্রিপলগুলো মলিন হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় ছিঁড়ে গেছে, ফেটে গেছে। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বীজের আর্দ্রতা কিছুটা বেড়ে গেছে। এর পরও বীজকে পোকামুক্ত রাখার জন্য রাসায়নিকের বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব পোকা দেখা যাচ্ছে, এর অধিকাংশই মরা। ফলে বীজের কোন ক্ষতি হয়নি। বিএডিসির প্রধান কার্যালয়ও বীজের সার্বিক বর্ণনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদ। তিনি মন্তব্য করেন, বিএডিসির ভাবমূতি রক্ষা করা, বিএডিসির প্রতি কৃষকদের আস্থা অক্ষুন্ন রাখা সকলেরই দায়িত্ব।
কিশোরগঞ্জের প্রধান ধানের মৌসুম বোরো। দ্বিতীয় প্রধান ধানের মৌসুম আমন। জেলা খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮৬ হাজার ২৮৪ মেট্রিকটন চাল।
এবারের বৈরি আবহাওয়ার ফলে বিএডিসির আমন বীজে পোকা, কর্মকর্তা বলছেন অঙ্কুরোদগম হবে
48 views
