জাহাঙ্গীর ছিল আমার সন্তানের মত, জাহাঙ্গীরের হত্যার পেছনে কারা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসুক …….. ফজলুর রহমান

29 views

# মোস্তফা কামাল :-
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বুধবার রাতে মিঠামইনে ভাড়াটে খুনিদের হাতে খুন হয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এলাকার এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সাথে তাঁর অফিসে কথা বলতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সামেনে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কিছু কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আজকে বলতে পারি, সে আমার সন্তানের মত ছিল। সে এক হতভাগা রাজনৈতিক কর্মী, নেতা। মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিল। জীবন যৌবন সবকিছু রাজনীতির জন্য দিয়েছে। গত ১৫ বছর হাসিনার স্বৈরাচারী সরকার এবং এলাকার সেই ফ্যাসিস্ট আবদুল হামিদের শক্তির বিরদ্ধে সে টোটাল ফাইট করে গিয়েছে। একদিনের জন্য সে মাথানত করে নাই। অনেকেই এলাকা থেকে চলে গিয়েছিল। কিন্তু মিঠামইন সদরে থেকেও সে মাথা উঁচু করে শহীদ জিয়ার রাজনীতি, তারেক জিয়ার নেতৃত্ব, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মেনে রাজনীতি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘একটা পর্যায়ে কেন জানি সে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে গেল। কথাটা আমি কেন্দ্রকে বললাম, সে হলো ষড়যন্ত্রের শিকার। সে কোন ধরনের অন্যায় করে নাই, গাছ কাটে নাই। সেটা ভিন্ন ধরনের বিষয়। এটা দেখা যাবে মামলা এবং আদালতে (মিঠামইনের বেড়িবাঁধের সরকারি ২০টি মেহগিনি গাছ কাটার মামলায় জাহাঙ্গীর জেল খেটেছেন, দলের সকল প্রকার সদস্যপদ মৃত্যুর দিন পর্যন্ত স্থগিত ছিল)। কিন্তু আজকে আমি বলছি, সেই জাহাঙ্গীর সর্বক্ষণ, মৃত্যুর পূর্ব মহুর্ত পর্যন্ত দলের কাজ করতো। আমার সঙ্গে কাজ করতো। আজকে মিঠামইনের ঢাকিতে আমার ডাকাতি বিরোধী একটা প্রতিরোধ সমাবেশ ছিল। সেখানে জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। সেই অবস্থায় আমারও আজকে মিঠামইনেই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছে।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি ভাবতেই পরি না, আমার ভাবনার অতীত। হাওরাঞ্চলকে বলা হয় শান্তির নীড়। কীভাবে হাওরাঞ্চলের মত একটা শান্ত এলাকায়, একটা নির্জন নিভৃত এলাকায় ঢাকা থেকে এসে একদল লোক তাঁকে হত্যা করলো। আজকে আমি শান্ত মনে বলবো না, আমি আমার অশান্ত মনেই বলছি। আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দিব, এদেরকে ধরতে তারা সমর্থ হয়েছে। আসামী বা অপরাধীদের বক্তব্য এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও তাদের ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে বোঝা যাবে, কারা হত্যা করেছে, কারা হত্যার পেছনে ছিল, কারা হত্যাকাণ্ডের মদদ দিয়েছে। এ কথাটা আমাকে দিয়ে আপনারা বলাতে পারেবন না। কারণ আমি তো জানি না, কে তাকে হত্যা করেছে। আমি বলবো নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক, জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা।’ তিনি বলেন, ‘তবে একটা কথা আমি বলতে চাই, যত রাষ্ট্রপতি বলেন, ভগ্নিপতি বলেন, অমুক তুমুক যাই বলেন, জাহাঙ্গীরের মত একটা সাহসী ছেলে মিঠামইনে আর জন্মগ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। তাঁর জন্য আমি কালকে রাতে ঘুমাতে পারি নাই। আমার হৃদয়ের কান্না কোনদিন শেষ হবে না। তারপরও বলতে চাই দেশের মানুষের কাছে, আমার দলে কাছে, আপনারা লক্ষ্য করুন, আপনারা জিনিসটা ভাল করে লক্ষ্য করুন, যাতে জাহাঙ্গীরের এই নির্মম নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রমূলক চক্রান্তমূলক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়। যারা এর পেছনে আছে, তাদেরকেই ধরেন।’ এ কথা বলতে বলতে ফজলুর রহমান কেঁদে ফেলেন। এসময় ফজলুর রহমানের সহধর্মিনী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতনসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *