# মোক্তার হোসেন গোলাপ :-
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাওরের স্বপ্নের সড়ক গুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। অপরিকল্পিত প্রকল্প আর ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে মিঠামইন উপজেলার প্রায় সবগুলো সড়কই যেন বালির ঘরে পরিণত হয়েছে। বর্ষার শুরুতে এবং বৃষ্টিতেই ধসে পড়তে শুরু করেছে এসব লাখো মানুষের স্বপ্নের সড়ক। ভাঙনের মুখে অল ওয়েদার সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ঘাগড়া-কেওয়ারজোড়, তিলিখাই সড়কসহ এমনকি হাওরের বহুল আলোচিত স্বপ্নের অল ওয়েদার সড়কের অধিকাংশ জায়গার দুই পাশে বসানো সিসি ব্লকের নিচে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। পানির প্রচণ্ড চাপে নিচের বালু সরে গিয়ে ব্লকগুলো দেবে যাচ্ছে। ফলে সড়কে তৈরি হচ্ছে বড় বড় ফাটল ও বিপজ্জনক গর্তের। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে সড়কের অনেক অংশই ধসে পড়েছে, যা যেকোনো সময় সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন শুধু বালু দিয়ে সড়ক ভরাট করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্লকের নিচে জিওটেক্সটাইল বা প্রয়োজনীয় শক্ত সাব-বেস দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। যার কারণে সড়কের বালু ফাকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরের বালু ধুয়ে গিয়ে পুরো সড়ক কাঠামো ধসে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সড়ক রক্ষায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সড়ক রক্ষায় নামলেও এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যকর বা জরুরি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সরকারি উদ্যোগ যখন সম্পূর্ণ ঝিমিয়ে পড়েছে, তখন তেলিখাই গ্রামের স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে বাঁশ, বস্তা, মাটি ও কচুরিপানা নিয়ে রাস্তা রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে নেমেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় লোক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রকাশ্যেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো নিয়ম মানা হয়নি। স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, তখনই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম এই রাস্তা টিকবে না। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় নিম্নমানের কাজ করে শতকোটি টাকা লুটপাট করে নিয়েছে।
হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওর অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতার জন্য বিশেষ ডিজাইন, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা (কালভার্ট/ওয়েভ ব্রেকার) এবং শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক ছিলো। কিন্তু এসবের একটিও মানা হয়নি। এগুলো না করে সাধারণ অঞ্চলের মতো সড়ক বানানোর ফলে কোটি কোটি টাকা এভাবে হাওরের পানিতে ভেসে যাচ্ছে।
একদিকে সরকার হাওর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়নের কথা বলছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে অপরিকল্পনা আর দুর্নীতির কারণে সেই উন্নয়নই এখন সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিঠামইনের মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন আর কতদিন দুর্নীতির এই বালুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে তাদের স্বপ্নের সড়ক? স্থানীয়রা দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি এবং টেকসইভাবে সড়ক পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়েছেন।

