ভৈরবে ৭ মাসের শিশু হত্যার পর এবার স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

61 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবার বিরুদ্ধে ৭ মাসের শিশু হত্যার ঘটনায় মামলা করায় এবার স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ঘাতক পাষণ্ড বাবা মেরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে। ২৫ এপ্রিল রোববার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাঁও ফজলু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায় বাবা মেরাজ মিয়া (২৪) এর বিরুদ্ধে তানভির ওরফে মোজাহিদ নামের ৭ মাসের ছেলে সন্তানকে ডোবায় ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ২৪ এপ্রিল ভৈরব থানায় স্বামী মেরাজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে শাশুড়ি রাবেয়া বেগম (৬০) ও ভাসুর আইনুল ইসলাম (৪০), নাজির মিয়া (৪৫) এবং ননদ সাহিদা বেগম (২২) কে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। আসামিরা এলাকার মৃত ফেলু মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানরা।
ঘটনার পর আসামিরা সবাই বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে রয়েছে। মামলার পর ২৫ এপ্রিল রাত ২টায় মেরাজ মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শ্বশুর আক্তার হোসেন ও সম্বন্ধির হাকিম মিয়ার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে দুইটি বসতঘর পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ২৬ এপ্রিল সকালে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিন বছর আগে মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার মৃত ফেলু মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে তাসলিমা বেগমের। তাদের পরিবারের ৭ মাস আগে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। মেরাজ মিয়া কখনো অটো চালাতেন আবার কখনো জুতার কাজ করতেন। মেরাজ মিয়া মাদকাসক্ত ছিল। প্রায় সময় মেরাজ তাঁর স্ত্রী, মা ও ভাইদের সাথে নেশার টাকার জন্য ঝগড়া করতো। ১০ দিন আগে স্ত্রী, সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয় মেরাজের মা ও ভাইয়েরা। এরপর থেকে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন তারা। সেখানে গিয়েও স্ত্রী তাসলিমার সাথে কলহ লেগে থাকে মেরাজের। ১ সপ্তাহ আগে দাদি রাবেয়া নাতিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শিশুটির নানা বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে এনে নাতিকে আটকে রাখে। তিনদিন পর শিশুটির মাকে জানায় শিশুটিকে তাঁর বাবা বিক্রি করে দিয়েছে। পরে থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত করলে তারা গিয়ে শিশুটিকে বের করে দিতে দাদি রাবেয়া বেগম বাবা মেরাজকে চাপ দেয়। ২২ এপ্রিল রাতে বাবা মেরাজ মিয়া শ্বশুর বাড়ির স্বজনদের জানায় শিশুটিকে গোলাপ মিয়ার ডোবায় ফেলে এসেছেন। সেখানে গেলে শিশুটিকে পাওয়া যাবে। ২৩ এপ্রিল সকালে নানার বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের নিয়ে গিয়ে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাকিম মিয়া বলেন, আমার ৭ মাসের ভাইগ্নার হত্যার বিচার পেতে আমার বোন তাসলিমা তাঁর স্বামী, শাশুড়ি, ২ ভাসুর ও ননদকে আসামি করে ভৈরব থানায় হত্যা মামলা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে মেরাজ তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমাদের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা একতো হত্যা মামলার আসামি আবার আমার বোনসহ আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা আসামিদের বিচার চাই। আমরা মেরাজের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ওসি স্যারসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য মেরাজ মিয়া তাঁর শ্বশুর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলার পর মেরাজ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।