খাল খনন উদ্বোধনে এমপি মাজহারুল, খাল খননে বাধা আসবে অনেকে অন্যের জায়গা দখল করলে আনন্দ পায়

85 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নে রয়েছে ‘ভাস্করখিলা’ নামে একটি বিল। সেই বিলে রয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি। সেখানে বোরো ধান আর শাকসবজির আবাদ হয়। ধান উৎপাদন হয় দুই হাজার টনের বেশি। কিন্তু শোলমারা এলাকা থেকে উত্তর দিকে মাইজখাপন ইউনিয়নের পাঁচধা সেতু পর্যন্ত ‘অন্নার খাল’ নামে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল ভরাট আর দখলের কারণে এসব জমি সবসময় পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বোরো জমি এবং শাকসবজি পানিতে ডুবে নষ্ট হয়। এবারও তাই হয়েছে। অথচ খালটি সচল থাকলে জলাবদ্ধার নিরসন হতো। তখন এসব জমিতে বোরো ধানের পাশাপাশি আমন ধানেরও আবাদ করা যেত বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
২৫ এপ্রিল শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে খালটির খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন। এসময় তিনি বলেছেন, খাল খননে বাধা আসতে পারে। অনেক মানুষ আছে, যারা অন্যের জমি দখল করতে আনন্দ পায়, অন্যের ক্ষতি করতে আনন্দ পায়। তবে এই খালটি খনন করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। ছোটখাট সমস্যাগুলো সদর উপজেলার ইউএনও করবেন। বড় সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সমাধানের চেষ্টা করবেন। এছাড়া এলাকার রাস্তাঘাট নিয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে বিলপাড়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ বলেছেন, কিছুদিন আগে খালের একটি দখল করা অংশ খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিছুটা ফসল রক্ষা পেয়েছে। খালটি খননের বিষয়ে ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। এখনও অনুমোদন হয়ে আসেনি বলে তিনি জানিয়েছেন। খাল খনন ও প্রশস্ত করতে গিয়ে যদি কারও ব্যক্তিগত জমি ক্রয় করতে হয়, এলাকাবাসীর সহায়তায় সেটিও করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
খাল খনন উদ্বোধনের সময় এলাকার কৃষক আব্দুল আউয়াল ধানের দু’টি ভেজা আঁটি এনে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে দেখিয়ে বলেন, এগুলি পানিতে তলিয়ে ছিল। ডুবে ডুবে ধানগুলো কাটতে হয়েছে। অনেক ধান নষ্ট হয়েছে। আবার কিছু মুরগির খামারের বর্জ্য, এমনকি টয়লেটের বর্জ্যও খালের মাধ্যমে এই বিলের পানিতে মিশে পানি দূষিত হয়ে গেছে। বিলে তাঁর চার বিঘা জমি রয়েছে। যেখানে ১০০ মণ ধান হওয়ার কথা ছিল। এখন ধান অনেক কম পাবেন। এরকম শত শত কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। কৃষক আব্দুল্লাহ আর ইসলাম উদ্দিনের রয়েছে দুই বিঘা করে জমি। আমিনুল হক সাদীর রয়েছে এক বিঘা জমি। এরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।
এসব অভিযোগ শুনে মাজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জেলা শহরের অনেকেই টয়লেটে সেপটিক ট্যাংক না করে শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদীতে সরাসরি লাইন করে দিয়েছে। এর বাইরেও নানা রকমের বর্জ্য পড়ে পানি কালো হয়ে গেছে। এসব বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি যতদিন এমপি আছেন, জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের স্বার্থে কাজ করে যেতে চান। আর অন্নার খালটি খনন করতে পারলে কেবল মহিনন্দ ইউনিয়নবাসী নয়, জেলা শহরের মানুষও উপকৃত হবেন। কারণ এই খাল ভারাট থাকার কারণে ভারী বৃষ্টি হলে শহরের পানিও সরতে পারে না। এটি খনন হলে জেলা শহরসহ পুরো এলাকার পানি মাইজখাপনের পাঁচধা এলাকা হয়ে নীলগঞ্জের নদীতে গিয়ে নেমে যাবে। মনিন্দ ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী এলাকার রাস্তাঘাটসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেছেন। সেগুলির বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মাজহারুল ইসলাম এমপি। তিনি ফিতা কেটে আর কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।