একদিকে বোরো ধান কাটা অন্যদিকে পাটের পরিচর্যা

103 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষকের যেন কোন কর্মবিরতি নেই। কিশোরগঞ্জসহ দেশের সর্বত্র এখন চলছে বোরো ধান টাকার উৎসব। পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ খ্যাত পাট জমিরও চলছে পরিচর্যা। একই কৃষক একদিন ধান কাটছেন, তো পরদিনই চলে গেছেন পাটের জমির পরিচর্যা করতে। এখন কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পাট জমিতে ৬ ইঞ্চি থেকে এক ফুট লম্বা পাটের চারা। এসব জমিতে একদিকে কোথাও কোথাও চারার ঘনত্ব বেশি, আবার পুরো জমিতে গজিয়েছে প্রচুর আগাছা। আগাছা আর বাড়তি চারা জমি থেকে চুষে নিচ্ছে পুষ্টি। ফলে কৃষকরা এখন চারার ঘনত্ব বুঝে বাড়তি চারা তুলে ফেলছেন। পাশাপাশি আগাছাগুলো সমূলে উৎপাটন করে পাট গাছগুলোর পরিপুষ্টভাবে নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছেন।
শনিবার সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা বিলে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার হলুদ মিয়া তাঁর পাট জমিতে পাঁচজন শ্রমিক লাগিয়ে আগাছা পরিষ্কার করছেন। নিজেও শ্রম দিচ্ছেন। হলুদ মিয়া জানান, এখন ধানকাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার টাকা। কিন্তু পাট জমির শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা। তিনি এখানে ২০ শতক জমিতে তোষা পাটের আবাদ করেছেন। ফলন হতে পারে চার মণের মত। বাজার ভাল থাকলে এসব পাট তিনি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। একই জমিতে এর আগে লাউ চাষ করেছিলেন। লাউয়ের মৌসুম শেষে একই জমিতে আবাদ করেছেন পাট। অর্থাৎ, এই এলাকার চাষীরা শস্যের বহুমুখিকরণের আওতায় একই জমিতে বছরে পালাক্রমে অন্তত তিনটি ফসলের আবাদ করে থাকেন। পাটের পর আবাদ করবেন আমন ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রদত্ত তথ্যে জানা গেছে, এবছর জেলায় মোট ১৬ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা করা হয়েছে মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭০৬ বেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *