ভৈরবে শাশুড়ির সাথে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

72 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শাশুড়ির সাথে অভিমান করে জেবা আক্তার সকাল (১৯) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকার করিম মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভৈরব থানার এএসআই আসিবুল হক ভূঞা।
নিহত গৃহবধূ জেবা আক্তার সকাল গোছামারা এলাকার করিম মেম্বারের বাড়ির সজিব মিয়া (৩০) এর স্ত্রী ও উপজেলা আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের জুয়েল মিয়ার মেয়ে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে গোছামারা এলাকার করিম মেম্বারের বাড়ির মৃত আকবর মিয়ার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী সজিবের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় নবীপুর গ্রামের জুয়েল মিয়ার মেয়ে জেবা আক্তার সকাল এর। তাদের পরিবারে ১৪ মাসের তাহা নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী সজিব মিয়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসার পর আর যেতে পারেনি। চট্টগ্রামে একটি পাদুকা তৈরির ফ্যাক্টরীতে চাকুরীরত রয়েছে। ২১ এপ্রিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির কাজ করছিলেন গৃহবধূ জেবা আক্তার সকাল। এসময় শাশুড়ি শামসুন্নাহার পুত্রবধূকে কটু কথা বলার পর নিজ ঘরে গিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। শিশু বাচ্চার চিৎকারের শব্দ শুনে শ্বশুর বাড়ির লোকজন দৌড়ে গিয়ে দেখেন জেবা আক্তার সকাল ফাঁসিতে ঝুলে আছে। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়দের সহায়তায় ফাঁসি থেকে নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেবা আক্তার সকালকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের ফুফু বেদেনা আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের বড় মেয়ে জেবা। তাকে বাবা মা অনেক আদর করতো। আমার ভাইয়ের মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর খবর শুনে আমি প্রথমে তাদের বাড়িতে যায় সেখানে তারা আমাকে ঠিক মতো কিছু বলতে পারেনি। পরে আমি হাসপাতালে এসে দেখি মরদেহ পড়ে আছে। তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজনও পালিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে নিহতের ভাসুর শামীম মিয়া বলেন, সকালে আম্মা আমার ছোট ভাইয়ের বউকে পরিচ্ছন্ন হয়ে সবজি কাটকাটি করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ ঘরে চলে যায় জেবা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে শিশু সন্তানের কান্না শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখতে পায় জেবা ফাঁসি ঝুলছে। আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখি জেবা জীবিত আছে। তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নেয়ার পর ইসিজি করে জানতে পারি তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জেবার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্মহত্যার বিষয়টি মিথ্যা বলে অপপ্রচার করছিল। তাই আমরা দূরে সরে আসি পুলিশের সাথে কথা বলি। আমরা পালিয়ে যাবো কেন? জেবার শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিথ্যা বলছে।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী সজিব মিয়া বলেন, তিনদিন হয়েছে আমি বাড়ি থেকে চট্রগ্রামে পাদুকা তৈরির ফ্যাক্টরীতে কাজের জন্য এসেছি। ২০ এপ্রিল বিকালে জেবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছি। তখনও সে হাসিখুশি ছিল। আমার মা জেবাকে অনেক আদর করতো। মায়ের সাথে অভিমান করে জেবা আত্মহত্যা করেছে আমার বিশ^াস হয় না। আমি চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়েছি। আমার ১৪ মাসের শিশুর কি হবে। জেবা আত্মহত্যা করে আমার পরিবারটা নষ্ট করে দিলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শারমিন আফরিনা বলেন, সকালে হাসপাতালে জেবা আক্তার নামে নারীকে আনার পর আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পায়। স্বজনরা বলছিল আত্মহত্যা করেছে। আমরা নিহতের গলায় ফাঁসিতে আত্মহত্যার আলামত পেয়েছি। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
ভৈরব থানার এএসআই আসিবুল হক ভূঞা বলেন, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।