মিঠামইন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর খুন, তিন ভাড়াটে খুনি আটক

34 views

# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৬০) তিন ভাড়াটে খুনি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে গিয়ে আহত তাঁর মোটরসাইকেল চালক হাদিস মিয়া (৩৮) বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলাকারী তিনজনই ধরা পড়েছে। উদ্ধার হয়েছে একটি চাপাতি। এদের একজনের বাড়ি বরগুনায়, দু’জনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়।
গতকাল বৃহম্পতিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় আহত হাদিসের বড়ভাই আজিজুল কবিরের সাথে। তিনি জানিয়েছেন, হাদিস মিয়া কোন কমিটিতে না থাকলেও তিনিও একজন বিএনপি কর্মী। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়া মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে জাহাঙ্গীরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বাড়ির কাছে যেতেই জাহাঙ্গীরের ওপর তিন ব্যক্তি চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। জাহাঙ্গীরের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এসময় হাদিস মিয়া একজনকে জাপটে ধরে ফেলেন। তখন হাদিসের মাথা, হাত ও পায়ে চাপাতি দিয়ে তিনটি কোপ দেয়। এর পরও তিনি হামলাকারীকে ছাড়েননি। তখন এলাকার লোকজন এসে হামলাকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে একজন আটক হলেও অন্য দু’জন নৌপথে পালানোর সময় করিমগঞ্জের হাওর থেকে রাতেই পুলিশ তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়। এরা তিনজন হলেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের প্রয়াত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে মো. মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাকিল হোসেন শাহীন (২৫)। পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীরা ঢাকা থেকে ভাড়ায় খুন করতে এসছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও কারা তাদের ভাড়া করেছিল, সেগুলি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনিদের অতীত রেকর্ড জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি বড় ঘটনা। সে কারণে মামলার প্রস্তুতি নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি, ফলে তিনজনকে আদালতের মাধমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মামলা হলে নিমান্ডে এনে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী করানোর চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হামলার পর আতহ দু’জনকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আর হাদিস মিয়াকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল সকালে সৈয়দ নজরুল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জাহাঙ্গীরের মরদেহ একটি ফ্রিজিং ভ্যানে রাখা হয়েছে। মিঠামইন থানার বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে মোতায়েন রয়েছেন। পরবর্তীতে মেডিক্যাল কলেজের মর্গে লাশের ময়না তদন্ত করানো হয়েছে। জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছেন। গতকাল ময়না তদন্ত শেষে ফ্রিজিং ভ্যানে করে লাশ নেওয়া হয় জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার বাসায়। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দলের প্রচুর নেতা-কর্মী জাহাঙ্গীরকে এক নজর দেখার জন্য সেখানে ভিড় করেন। এদিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ছোটভাই জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের দাফন আজ শুক্রবার বাদ জুমা মিঠামইনের পারিবারিক গোস্তানে সম্পন্ন হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এমপি জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সাথে খুনি ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মিঠামইনের বেড়িবাঁধের সরকারী ২০টি মেহগিনি গাছ কাটার দায়ে মিঠমইনের প্রকৌশল অফিসের দায়ের করা মামলায় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। একই দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সেই স্থগিতাদেশ বহাল ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *