# নিজস্ব প্রতিবেদক :-
আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর, ধরণির বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা। আজ শুভ মহালয়া। সনাতন ধর্মমতে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হলো দেবীপক্ষ। ভোরে তর্পণ বিসর্জন, মহালয়ার ঘট স্থাপন, বিশেষ পূজা আর মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খের ধ্বনি ও চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আর এর মধ্যদিয়েই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হলো আজ। এদিনই দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। আর দেবীর এই আগমনীকে ঘিরে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও ভৈরব উপজেলায় ২৩টি ও কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি থানায় ৩৮১টি পূজামণ্ডপে আহ্বান জানানো হবে দেবীকে।
শারদীয় দুর্গাপূজার গুরুত্বপর্ণ একটি অনুষঙ্গ এই মহালয়া। পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মূলত: মহালয়ার তিথির সময়কাল হলো অমাবস্যা। এইদিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি প্রচলিত আছে। তর্পণ মন্ত্রে বলা হয়ে থাকে, ‘যে বান্ধবা অবান্ধবা বা, যে অন্য জন্মনি বান্ধবাঃ। তে তৃপ্তিং অখিলাং যান্ত, যে চ অস্মৎ তোয়-কাঙ্খিণঃ।’ অর্থাৎ বন্ধু ছিলেন কিংবা বন্ধু নন অথবা জন্মজন্মান্তরে বন্ধু ছিলেন তাদের জলের প্রত্যাশা তৃপ্তিলাভ করুক। মহাভারতে এই দিনটিকে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘মহালয়’- শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত উৎস মহৎ এবং আলয়। কিংবা মহত্ত্বের আলয়। তবে শ্রী শ্রী চণ্ডীতে মহালয় হচ্ছে পুজো বা উৎসবের আলয়। অর্থাৎ দেবীপক্ষ বা দুর্গাপূজার শুরুর ক্ষণ।
আসছে ২৭ সেপ্টেম্বর ৯টা ১৮ মিনিটে পঞ্চমী তিথির অধিবাসের মধ্যদিয়ে দেবী পূজার সূচনা হবে। দেবী দুর্গা কৈলাশ ছেড়ে তার সন্তানদের নিয়ে গজে অর্থাৎ হাতিতে চড়ে আসবেন পিতৃলোকে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠায় বছর ঘুরে আবারো মর্ত্যে আসবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ৯টা ৫৮টা মিনিটে ষষ্ঠি তিথিতে অশ্বমেথ বৃক্ষের পূজার মাধ্যমে আহ্বান করা হবে দেবী দুর্গার। ঢাকঢোল আর কাঁশার বাদ্যে দেবীর বোধন পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ওইদিনই হবে দেবীর বোধন পূজা। ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী তিথিতে দেবীর নবপত্রিকা স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্যদিয়ে হবে মহা সপ্তমীবিহিত পূজা। এই নবপত্রিকাই ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। নবপত্রিকাকে সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে অধিষ্ঠিত করা হবে। ওইদিনই দেবীর মৃণ্ময়ীতে প্রাণ সঞ্চার করা হবে। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী তিথিতে সনাতনী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সকলে মিলে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হবে। ওইদিনই হবে সন্ধীপূজা। মাতৃরূপে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতীমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে ‘কুমারী পূজা’। হিন্দু শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় ‘উমা’। ১ অক্টোবর নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সর্বশেষ ২ অক্টোবর দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্যদিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।

