বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন থেকে অন্যবাসকে ধাক্কা মাঝখানে থাকা সিএনজিসহ একাধিক যানবাহনের ২৫ জন যাত্রী আহত

8 views

# মিলাদ হোসেন অপু :-
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে। মাঝখানে থাকা সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনের ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছে। ২৯ জুলাই বুধবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৯ জুলাই বুধবার সকাল ১১টায় সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এসময় মাঝখানে থাকা একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, সোহাগ বাসের সামনে থাকা একটি অটোরিকশা, ট্রাক ও মাইক্রোবাসে ধাক্কা লাগে। এসময় বিভিন্ন যানবাহনের ২৫ জন যাত্রী আহত হয়। এদের মধ্যে দিনেশ (৬৫), ঝর্ণা রাণী (৫০), টিপু (২২), রেজিয়া (৭০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঝর্ণা রাণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকীরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর দিগন্ত বাসচালক পলাতক রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মিয়া বলেন, দিগন্ত বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি ও বাসসহ ৬টি যানবাহনকে ধাক্কা দেয়। দৌড়ে এসে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুই বাসের অনেক যাত্রী আহত হয়েছে।
দিগন্ত বাসের যাত্রী নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি দিগন্ত বাসে বসে ছিলাম। মাধবপুর থেকে বাসে উঠেছি ঢাকায় যাবো। বাস ভৈরব টোলপ্লাজায় আসার পর বাস ব্রেকফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আমি আহত হয়েছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে গেছি।
বাসের আরেক যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছি। বাস টোল প্লাজায় আসার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এসময় এসে একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। বাসের মধ্যে একটি সিএনজি দুমড়ে মুচড়ে যায়। সিএনজি ড্রাইভার গুরুতর আহত হয়েছে।
বিভার্টেক চালক শ্যামল মিয়া বলেন, আমি বাসস্ট্যান্ডে জ্যামে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি বাস সজোরে ধাক্কা দিলে আমার বিভার্টেকে থাকা তিনজন যাত্রীসহ আমি আহত হয়।
এ বিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার এসআই রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ও ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া একটি সিএনজি ও একটি বিভার্টেকসহ দুইটি বাস উদ্ধার করি। দুইটি বাসের চালকই পলাতক রয়েছে। সিএনজি চালকসহ গুরুতর আহত হয়েছে ৫ জন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা ৮/১০ জন যাত্রী বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জেনেছি। দুইটি বাসের চালকই পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *